শাহ মাহমুদ মসজিদ, পাকুন্দিয়া, কিশোরগঞ্জ


কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলার এগারসিন্দুর ইউনিয়নের এগারসিন্দুর গ্রামে অবস্থিত নির্মাণ শৈলির এক অনন্য নিদর্শণ ঐতিহ্যবাহী শাহ মাহমুদ মসজিদ। মসজিদটি নির্মিত হয়েছিল ১৬৮০ খ্রি: দিকে সুবেদার শায়েস্তা খানের আমলে।জনশ্রুতি রয়েছে,মসজিদটি নির্মান করেছিলেন এগারসিন্দুরের প্রখ্যাত ব্যবসায়ী শেখ শাহ মাহমুদ এবং তার অসংখ্য বাণিজ্যতরী আরব, পারস্য ও রোমের বিভিন্ন বন্দরে যাতায়াত করত।মসজিদটিতে শায়েস্তা খান আমলের শিল্পরীতির বহি:প্রকাশ সহ স্থানীয় শিল্পরীতিরও প্রভাব রয়েছে। মসজিদের সামনের দেয়ালে সুন্দর পুরা মাটির চিত্রকর্ম রয়েছে। ধারনা করা হয় ১১৪৫ বাংলা সনের দিকে ঈশাঁখার অধস্তন পুরুষগণের পক্ষ থেকে জঙ্গলবাড়ীর দেওয়ানগণ এ মসজিদের জন্য ভূমি দান করেছিলেন। শাহ মাহমুদ মসজিদ মোঘল স্থাপত্তের উপর বাংলাদেশের স্থাপত্য শিল্পের এক অনন্য উদাহারণ।

 

 

ঐতিহাসিক মূল্য এবং সতর্কতা:ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনা করে এর সংস্কার সাধন করা হয়েছে।গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর কর্তৃক সংরক্ষিত পুরাকির্তী হিসেবে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয় – “ কোন ব্যক্তি এই পুরাকির্তীর কোন রকম ধ্বংস বা অনিষ্ট সাধন করলে বা এর কোন বিকৃতি বা অঙ্গচ্ছেদ ঘটালে বা এরে কোন অংশের উপর লিখলে বা খোদাই করলে বা কোন চিহ্ন বা দাগ কাটলে,১৯৬৮ সালের ১৪ নং পুরাকির্তী আইনের ১৯ ধারার অধীনে তিনি সবার্ধিক ০১ বৎসর পযর্ন্ত জেল বা জরিমানা বা উভয় প্রকার দন্ডে দন্ডনীয় হবে”।

 

 

যাতায়াত ব্যবস্থা:কিশোরগঞ্জ সদর থেকে ২২/২৩ কিলোমিটার অদূরে পাকুন্দিয়া উপজেলায় অবস্থিত এই ঐতিহ্যবাহী শাহ মাহমুদ মসজিদ।কিশোরগঞ্জের নগুয়া সিএনজি স্ট্যান্ড থেকে সিএনজি বা অটোগাড়ি যোগে ৩০(ত্রিশ)টাকা ভাড়ায় পাকুন্দিয়া বাজার যেতে হবে।সিএনজি পরিবর্তন করে নতুন সিএনজি বা অটোগাড়ি যোগে ৩০(ত্রিশ)টাকা ভাড়ায় মঠথোলা বাজার থেকে প্রায় ০২(দু্ই)কিলোমিটার পশ্চিমে অথবা এর অবস্থান।

 

 

আবাসিক ব্যবস্থা:উক্ত স্থানের আশেপাশে রাতে অবস্থানের জন্য আবাসিক কোন হোটেল ব্যবস্থা নাই।তবে কিশোরগঞ্জ জেলা সদরের বড় বাজারে হোটেল ক্যাসেল সালাম (চাইনিজ ও আবাসিক), আওয়ামীলীগ অফিসের বিপরীতে হোটেল রিভার ভিউ (আবাসিক), রংমহল সিনেমা হলের বিপরীতে হোটেল হোটেল গাংচিল এ থাকা ও খাওয়ার সু-ব্যবস্থা রয়েছে। আরও রয়েছে হোটেল শ্রাবণী, হোটেল নরসুন্দা, হোটেল আল মোবারক, উজানভাটি সহ বেশ কিছু হোটেল।

 

 

আরো যা দেখতে পারেন:শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান(কিশোরগঞ্জ সদর),চন্দ্রাবতী শিব মন্দির(করিমগঞ্জ),ঈসাখাঁ যাদুঘর(করিমগঞ্জ), গাঙ্গাটিয়া জমিদারবাড়ি(হোসেনপুর),তালজাঙ্গা জমিদারবাড়ি(তাড়াইল),গিরিশচন্দ্র পালেরবাড়ি(তাড়াইল),পাগলা মসজিদ(কিশোরগঞ্জ সদর), কুতুব শাহী মসজিদ(অষ্টগ্রাম),শাহ মাহমুদ মসজিদ(পাকুন্দি য়া),এগার সিন্দুর শেখ সাদী মসজিদ(কটিয়াদী),মরুদ্বীপ৭১পার্ক(কটিয়াদী), উবাই পার্ক(কিশোরগঞ্জ সদর),মায়া কানন পার্ক(কিশোরগঞ্জ সদর)প্রভৃতি স্থান সমূহ সময় নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন। রাত্রিযাপনের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর ও ভৈরব উপজেলায় রয়েছে আবাসন ব্যবস্থা।