শহিদী মসজিদ, কিশোরগঞ্জ


কিশোরগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্রে পুরানথানায় প্রতিষ্ঠিত শহীদী মসজিদ।এর সুউচ্চ মিনার সকল মানুষের দৃষ্টি কাড়ে।নিমার্ণশৈলীর দিক থেকে মুসলিম স্থাপত্যের দিক থেকে খুব উচ্চতর পযার্য়ের না হলেও এর ত্রিতল ভবনটি সবাইকে মুগ্ধ করে।কারুময়,নখশাখচিত এবং রং-বেরংয়ের কাজ দ্বারা সুসজ্জিত। জানা যায় সাম্প্রদায়িক ইস্যুতে ১৯৪২ সালের ২৪ অক্টোবর ব্রিটিশ সরকারের সৈন্যদের গুলিতে প্রায় ১২জন মুসল্লি আহত হলে ২জন ঘটনাস্থলে এবং ০৩ জন হাসপাতালে নেবার পথে মারা যায়।অতপর বিশিষ্ট আলেমগন নিহত মুসল্লিদের শহীদ বলে আখ্যা দেন এবং তখন থেকে এই মসজিদটি শহীদী মসজিদ হিসেবে এলাকায় ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে।

মুগ্ধকর নির্মাণশৈলী আর সুউচ্চ মিনার।মসজিদটির আরেকটি বিশেষত্ব হলো অসংখ্য পিলারের উপর স্থাপিত। মসজিদের গ্রাউন্ড ফ্লোরে ১২৮টি পিলার রয়েছে। সম্ভবত পুরানথানায় এই মসজিদটি ১৯৩৭-৩৮ খ্রিষ্টাব্দে নিমার্ন করা হয়।পরবীতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জনাব সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম মসজিদের ত্রিতল নিমার্নে ২০ লক্ষ টাকা অনুদান হিসেবে দিলে তা বতর্মান রুপ লাভ করে।

১৯৪2 সালে ২৪ অক্টোবরে প্রখ্যাত আলেম হযরত মাওলানা আতহার আলীর হাতে সবে মসজিদটির সংস্কার শুরু হয়েছে। প্রথানুযায়ী হিন্দু সমপ্রদায় প্রতিবছরের মতো সে বছরও এ মসজিদের সামনের সদর রাস্তা দিয়ে দূর্গাপূজা শেষে তাদের বিগ্রহ মিছিল বাজনা বাজিয়ে নিতে চায়। মুসলিম সম্প্রদায় এতে বাধা দিয়ে বলে এ পথে বিগ্রহ নেয়া হলেও মসজিদের সামনে এসে বাদ্য-বাজনা বাজানো চলবে না। কিন্তু কোন পক্ষই ছাড় দিতে নারাজ। নির্দিষ্ট সময় যতোই এগিয়ে আসতে থাকলো ততোই উত্তেজনা বৃদ্ধি পায় এবং পরিনতি খুবই খারাপের দিকে যায়।

শহরের প্রানকেন্দ্রে এর অবস্থান হওয়ায় অধিকাংশ মুসল্লি এখানে অনায়াসে এসে নামায় আদায় করতে পারেন।মসজিদটির পরিবেশ অত্যন্ত মনোরম।ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য এবং যারা ইতিহাসকে ধারন করেন তাদের জন্যে একটি অনন্য উদাহরন।

 

 

কিভাবে যাওয়া যায়: গাইটাল বাস টামির্নাল থেকে ইজিবাইক, রিক্সায় যাওয়া যায়।

 

কিশোরগঞ্জ জেলার দশর্নীয় স্থান: শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান, চন্দ্রাবতী শিব-মন্দির,ঈসা খা জাদুঘর, গাঙ্গাটিয়া জমিদারবাড়ি, তালজাঙ্গা জমিদারবাড়ি,গিরিশচন্দ্র পালেরবাড়ি, পাগলা মসজিদ, শাহ মাহমুদ মসজিদ,কুতুবশাহী মসজিদ,এগারসিন্দুর শেখ সাদী মসজিদ,মরুদ্বীপ ৭১ প্রভৃতি স্থান সমূহ সময় নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন। তবে যেখানে যাবেন কিশোরগঞ্জ সদরের বাহিরে রাতের থাকার মতো ভৈরব উপজেলা ছাড়া আবাসন ব্যবস্থা তেমন ভাল নয়।

 

অবাসিক ব্যবস্থা: কিশোরগঞ্জ সদর পৌরসভায় গাংচিল, উজানভাটি, নিরালা,হোটেল শেরাটন, ক্যাসেল সালাম নামে চাইনিজ ও আবাসিক হোটেল এর ব্যবস্থা রয়েছ। অবস্থানঃ গৌরাঙ্গবাজার, কিশোরগঞ্জ