কুতুব শাহী মসজিদ,অষ্টগ্রাম,কিশোরগঞ্জ


কিশোরগঞ্জ জেলার অষ্টগ্রাম থানা সদরে অবস্থিত পাচঁ গম্বুজ বিশিষ্ট এই ঐতিহাসিক কুতুব শাহী মসজিদ।মসজিদের নির্মানকাল সম্পর্কে ঐতিহাসিকদের মাঝে মতভেদ থাকলেও মসজিদটিতে সুলতানী এবং মোগল স্হাপত্যের বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হওয়ায় অধিকাংশ ইতিহাসবেত্তার অভিমত এই যে,১৭শ শতাব্দীতে এই মসজিদটি নির্মান করা হয়। বিখ্যাত দরবেশ হযরত শাহ কুতুব উল আউলিয়া (রা:) এর নামানুসারে এই মসজিদের নামকরন করা হয়েছে।

 

 

কুতুব শাহী মসজিদের র্নিমাতা সম্পর্কে ইতিহাস থেকে পুরোপুরি কোন ধারনা পাওয়া না গেলেও জনশ্রৃতি রয়েছে মজলিশ কুতুব এই মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন।আবার অনেকে বলেন কুতুব শাহ নামে একজন দরবেশ এই মসজিদটি নির্মান করেছিলেন।ঐতিহাসিক বিবেচনায় আফগান শাসক মজলিশ কুতুব এই মসজিদ নির্মাণ করেন বলে ধারনা পাওয়া যায়।ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনা করে মসজিদটির সংস্কার সাধন করা হয়েছে।যাদুঘর ও প্রত্নতত্ব অধিদপ্তর,গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক এটাকে সংরক্ষিত পুরার্কীতি হিসেবে ঘোষনা করা হয়।

 

 

ইতিহাস থেকে জানা যায়,তৎসময়ে ব্রিটিশ-ইন্ডিয়া তে টাকার নোটের উপর শাপলা ফুলের ছবি দেওয়ার কারনে মুসলিম নেতারা ক্ষেপে গেলেন।মোগলোত্তর সময়ে মুসলিম নেতারা ছিলেন অত্যন্ত প্রভাবশালী।হিন্দু- মুসলিম দ্বদ্ধ লেগে যায়।সে সময়ে ইন্ডিয়াতে কুতুব শাহী মসজিদটির কথা ওঠে।ব্রিটিশ-ইন্ডিয়া সরকার তখন এই মসজিদটি দেখার জন্য হেলিকপ্টার দিয়ে মুসলিম নেতাদের অষ্টগ্রাম পাঠায়।মুসলিম নেতারা হেলিকপ্টার যোগে অ্ষ্টগ্রাম আসেন এবং মসজিদের দেয়ালে শাপলা ফুল এবং মংগল ঘটের ছবি তারা দেখতে পান।এটা হিন্দু কালচার এর অংশ হিসেবে সকলের জানা।এটা দেখে মুসলিম নেতারা অনেকটা শিক্ষা লাভ করেন এবং তারা বুঝতে পারেন এ অঞ্চলের(তথা বাংলাদেশের) মানুষ ধর্মীয় সম্প্রতির এক অনন্য উদাহরণ।

 

 

কিশোরগঞ্জ জেলার অষ্টগ্রাম হাওর বেষ্টিত একটি অঞ্চল।জীবন-মানের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা এ অঞ্চলে তেমন না থাকলেও অধুনা যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন চোখে পড়ার মতন।ভ্রমন পিপাষুরা;যারা হাওর দেখতে ভালবানেন,ঘুরে আসতে পারেন হাওর সৌর্ন্দয অষ্টগ্রাম হতে।পুরো একদিনের প্রস্তুতি নিয়ে অষ্টগ্রামের সৌর্ন্দয উপভোগ করতে হবে।

 

 

যাতায়াত ব্যবস্থা: কিশোরগঞ্জ সদর থানাধীন গাইটাল বাস স্ট্যান্ড হতে ঢাকা/ভৈরব গামী অনন্যা সুপার অথবা যাতায়াত বাসযোগে জন প্রতি ১০০/= ভাড়ায় কুলিয়ারচর থানাধীন দাড়িয়াকান্দি বাস স্ট্যান্ড নামার পর ‍সিএনজি বা অটোযোগে কুলিয়ারচর লঞ্জ ঘাট যেতে হবে।অথবা ঢাকার গোলাপবাগ বা মহাখালী বাস টার্মিনাল হতে ”অনন্যা সুপার বা ”যাতায়াত” বাস যোগে ভৈরব হয়ে কুলিয়ারচর থানার দাড়িয়াকা্ন্দি বাস স্ট্যান্ড নেমে কুলিয়ারচর লঞ্চঘাট যাওয়া যেতে পারে।এক্ষেত্রে বাস ভাড়া বাবদ খরচ হবে ২০০/২৫০ টাকা।লঞ্জঘাট হতে লঞ্জযোগে জনপ্রতি ৮০/১০০ টাকা ভাড়ায় ২.৩০ ঘন্টায় অষ্টগ্রাম পৌছানো যাবে।অথবা কুলিয়ারচর লঞ্জঘাট হতে স্পীড বোট যোগে জনপ্রতি ২০০/=খরচে ৪০/৪৫ মিনিট সময় ব্যয়ে বাঙালপাড়া লঞ্জঘাট পৌছানো যাবে।অতপর সেখান হতে ২০/=টাকা ভাড়া ব্যয়ে অটো গাড়িযোগে ২০ মিনিটে অষ্টগ্রাম উপজেলা পরিষদে পৌছানো যাবে।সেখান হতে আধা কি:মি্ অদূরে ঐতিহ্যবাহী কুতুব শাহী মসজিদ।

 

অবাসিক ব্যবস্থা: উল্লেখিত স্থানে আবাসনের তেমন কোন ব্যবস্থা নেই। তবে কিশোরগঞ্জ সদর পৌরসভায় গাংচিল, উজানভাটি, নিরালা, ক্যাসেল সালাম নামে চাইনিজ ও আবাসিক হোটেল এর ব্যবস্থা রয়েছ। অবস্থানঃ গৌরাঙ্গবাজার, কিশোরগঞ্জ।

 

 

আরো যা দেখতে পারেন:শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান, চন্দ্রাবতী শিব মন্দির,ঈসাখাঁ যাদুঘর, গাঙ্গাটিয়া জমিদারবাড়ি, তালজাঙ্গা জমিদারবাড়ি, গিরিশচন্দ্র পালেরবাড়ি,পাগলা মসজিদ, কুতুব শাহী মসজিদ,শাহ মাহমুদ মসজিদ, এগার সিন্দুর শেখ সাদী মসজিদ, মরুদ্বীপ৭১, প্রভৃতি স্থান সমূহ সময় নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন। রাত্রিযাপনের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর ও ভৈরব উপজেলায় রয়েছে আবাসন ব্যবস্থা।