ঈশাখাঁ জাদুঘর, করিমগঞ্জ,কিশোরগঞ্জ


কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেললার জঙ্গলবাড়ী এলাকায় বাংলার বার ভূইঁয়াদের এক ভূইঁয়া বীর ঈশাখাঁর বাড়ী অবস্থিত।১৫৩৬খ্রিঃ মতান্তরে ১৫৩৭খ্রিঃ বতর্মান ব্রাক্ষনবাড়িয়া জেলার সড়াইল উপজেলায় জন্ম গ্রহন করেন মসনদ-ই-আলা ঈশাখাঁ।পিতা- কালীদাস গজদানী নামান্তরে সোলায়মান খাঁ।১৫৮১ সালর পর থেকে ১৫৯৯ খ্রিঃ পযর্ন্ত জঙ্গলবাড়িতে তিনি অবস্থান করেন।প্রথম স্ত্রীর নাম সৈয়দা ফাতেমা খাতুন এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর নাম স্বনর্ময়ী। পরগনার সংখ্যা ২২টি এবং দুগের্র সংখ্যা ০৬টি।১৫৯৯ খ্রিষ্টাব্দের সেপ্টম্বর মাসে গাজিপুর জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার বক্তারপুরে মৃত্যু বরণ করেন তিনি।

Ishaka_Jador_2

দরবার গৃহ

 

ঈশাখাঁর রাজত্ব কালে এই স্থানে তিনি তাঁর রাজধানী স্থাপন করেন।তিনি এ স্থান থেকে তাঁর দরবার পরিচালনা করতেন। ১৬ শতকের চতুর্থপাদে মুঘলদের নিকট ঈশাখাঁ পরাজিত হয়ে জঙ্গলবাড়ী এলাকায় আগমন করেন এবং ঈশাখাঁ লক্ষণ হাজর রাজধানী জঙ্গলবাড়ী আক্রমণ করে দখল করেন। এটি কিশোরগঞ্জের তথা বাংলাদেশের একটি ঐতিহাসিক স্থান হিসেবে বিবেচিত।

জঙ্গলবাড়ি যাদুঘর

 

ঈসাখাঁর স্মৃতি বিজড়িত এই স্থানটি আজও কালের সাক্ষী হয়ে দাড়িয়েঁ আছে। ১২জুন ২০০৫ খ্রিঃ করিমগঞ্জ উপজেলার উপজেলা নিবার্হী অফিসার জনাব কে এম রুহুল আমীন ঈসাখাঁ জাদুঘরের শুভ উদ্বোধন করেন।২০১৭ সালের দিকে আমি সরেজমিনে ভ্রমনে গেল দেখা যায় যাদুঘরটি অত্যন্ত জরাজীন অবস্থায়।

 
Ishaka_majar

মাজার শরীফ

 

ঈসাখাঁর স্মৃতি বিজড়িত এই যাদুঘরের সামনে রয়েছে এক বিশাল পুকুর এবং পুকুরের পুব পাশে রয়েছে জঙ্গলবাড়ি মাধ্যমিক বিদ্যালয়।আর পশ্চিমে রয়েছে নয়নাভিরাম মসজিদ যা আজও কালের এক অনন্য সাক্ষী হিসেবে বিদ্যমান। রয়েছে বেশ কয়েকজনের কবরস্থান।

 

 

জঙ্গলবাড়ি মসজিদ

 

ঈসাখাঁর স্মৃতি বিজড়িত এই যাদুঘরটি প্রত্নতত্ত অধিদপ্তর কর্তৃক সংরক্ষিত পুরাকির্তী হিসেবে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয় – “ কোন ব্যক্তি এই পুরাকির্তীর কোন রকম ধ্বংস বা অনিষ্ট সাধন করলে বা এর কোন বিকৃতি বা অঙ্গচ্ছেদ ঘটালে বা এরে কোন অংশের উপর লিখলে বা খোদাই করলে বা কোন চিহ্ন বা দাগ কাটলে,১৯৬৮ সালের ১৪ নং পুরাকির্তী আইনের ১৯ ধারার অধীনে তিনি সবার্ধিক ০১ বৎসর পযর্ন্ত জেল বা জরিমানা বা উভয় প্রকার দন্ডে দন্ডনীয় হবেন।

যাতাবায়ত ব্যবস্থাঃ কিশোরগঞ্জ জেলা আন্তঃনগর বাস টার্মিনাল (গাইটাল) হতে সিএনজি অথবা অটোরিক্সায় শহরের শেষ প্রান্ত একরামপুর, একরামপুর হতে সিএনজি অথবা অটোরিক্সায় সরাসরি ঈশা খাঁ যাদুঘরে যাওয়া যায়।

দূরত্বঃ গাইটাল বাসটার্মিনাল হতে ঈশা খাঁর যাদুঘর প্রায় ৭ কিলোমিটার।

আবাসিক হোটেলঃ গাংচিল, উজানভাটি, নিরালা, ক্যাসেল সালাম। অবস্থানঃ গৌরাঙ্গবাজার, কিশোরগঞ্জ।

Geographical Location