মেধস মুনি আশ্রম,বোয়ালখালী, চট্রগ্রাম


মেধস মুনি আশ্রমের পরিচিতি দুর্গা পুজোর উৎপত্তিস্থল হিসেবে। কিন্তুু চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে অবস্থিত এই জনপ্রিয় তীর্থভূমিটি তার অসাধারন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্যে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ভ্রমনে আগ্রহীদের কাছে। মুল ফটক পার হয়েই নানা রকম গাছ গাছালিতে ঘেরা প্রায় ১৪০ টি সিঁড়ি পার হয়ে দেখা মিলবে মূল মন্দিরের। হাতের ডানেই সীতা পুকুরের দিকে নেমে গেছে চমৎকার কাজ করা দীর্ঘ একটি সিড়ি, আর মূল মন্দিরটির পাশ ঘেঁষে সামনে গেলেই পৌছে যাবেন আরেক জগতে।
 

 

চমৎকার বন্য পরিবেশের মধ্য দিয়ে চলে গেছে পাহাড়ি রাস্তা… এই পথেই চোখে পড়বে একে একে শিব আর কালী মন্দির। আর সংযোগ পথের দুপাশেই নানা রকমের গাছ। খুব কাছেই পাহাড় আর তার পাশ দিয়ে বয়ে চলা পাহাড়ী নদী মুগ্ধ হতে বাধ্য করবে আপনাকে। একটু মনোযোগ দিয়ে গাছের দিকে তাকালেই চোখে পড়বে নানা প্রজাতির বানর.. আর সাহস করে পাহাড়ী রাস্তা ধরে নিচে নামলেই দেখা পাবেন বন মোরগ আর শেয়ালের।

 

 

পুরো বন্য পরিবেশের এই মন্দিরে পুজের সময় ছাড়া মানুষের উপস্থিতি খুব একটা নেই বললেই চলে। তবে তার জন্যে অনিরাপদ ভাববার সুযোগ নেই। মন্দিরের সেবকদের বিচরন রয়েছে সবখানেই। একটি মাত্র সহজ উচু নিচু পাকা রাস্তা ধরে হেটে নিজেই পুরো এলাকাটা ঘুরে আসা যায়, তবে চাইলেই সেবকদের সাহায্য নিয়ে তাদের সাথে মন্দিরের ইতিহাস জানতে জানতে ঘুরে দেখতে পারেন জায়গাটা।

 

 

অবস্থান: মেধস মুনি আশ্রমের অবস্থান চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার করলডেঙ্গা পাহাড়ে। উপজেলা সদর থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৮ কিলোমিটার। প্রায় ৫০০ ফুট উপরে অবস্থিত মুল আশ্রম এলাকাটি ৬৮ একর জায়গা জুড়ে অবস্থিত। মোট দশটি মন্দির রয়েছে এখানে, যার মধ্যে মূল চন্ডি মন্দিরে রয়েছে দর্শনার্থীদের জন্যে থাকা এবং খাবার ব্যবস্থা।

 

 

ইতিহাস: প্রাচীনকালে রাজা সুরথ মেধস মুনির পরামর্শে শত্রুদের কছে হারানো রাজ্য ফিরে পাবার আশায় দেবী দুর্গার পূজা করেন। দেবীর আশির্বাদে শেষ পর্যন্ত রাজ্য ফিরে পান তিনি। দুর্গাপূজার শুরু সেখান থেকেই। ১১৪ বছর আগে স্বামী বেদানন্দ চন্দ্রনাথ পাহাড়ে এসে দৈবযোগে আবিষ্কার করেন এই আশ্রম।

 

 

যাতায়ত: চট্টগ্রাম শহরের যে কোন জায়গা থেকে চলে আসুন বহাদ্দারহাট বাস টার্মিনালে, বাস টার্মিনালে আসলেও বাসে ওঠার সৌভাগ্য হচ্ছে না আপনার! কারন বোয়ালখালীতে যাবার জন্য শহর থেকে কোন লোকাল বাস নেই। টার্মিনালের বিপরীতে দেখবেন কিছু সবুজ রংয়ের টেম্পো দাঁড়িয়ে আছে। জিজ্ঞাসা করুন, কানুনগোপাড়া কোন টেম্পোটি যাচ্ছে। জিজ্ঞাসা করে উঠে পড়ুন, ভাড়া ২৫/৩০টাকা। সময় লাগবে ১ ঘন্টার মতো। পথে পার হতে হবে কালুরঘাট সেতু। টেম্পো আপনাকে নামিয়ে দেবে ছোট একটা বাজারের মতো জায়গায়। ১ মিনিট সামনে হেঁটে ডানের পথে দাড়িয়ে থাকা সিএনজি গুলোকে জিজ্ঞাসা করুন আশ্রমে যাবে কিনা, শুধু আশ্রম বললেই চিনবে। রিজার্ভ সিএনজির ভাড়া সর্বোচ্চ ১৫০ টাকা, একেবারে আশ্রমের মূল ফটকের সামনেই নামিয়ে দেবে আপনাকে। সব মিলিয়ে চট্টগ্রামের মূল শহর থেকে সকালে রওনা দিয়ে দুপুরের মধ্যে ফেরার পথ ধরতে পারবেন।

 


 
যা দেখতে পারেন: যাত্রাপথেই পার হতে হবে প্রায় শতবর্ষী কালুরঘাট সেতু। ফিরতি পথে অবশ্যই ঘুরে যাবেন এর আশপাশটা। ঘাটে বাধা নৌকা ভাড়ায় নিয়ে কর্ণফুলী নদীতে কাটিয়ে দিন বিকেলের সময়টা। আশ্রমের প্রবেশ পথের ঠিক আগেই আছে চট্টগ্রামের একমাত্র পদ্মপুকুর। বর্ষায় পদ্ম ফুলে পরিপূর্ণ হয়ে থাকে শান বাধানো পুকুরটি।

 
Photo Credit-shadath Siam