লালন শাহ মাজার, ছেউঁড়িয়া, কুমারখালী, কুষ্টিয়া


ফকির লালন শাহ বাংলা সাহিত্য ও ঐতিহ্যের এক অনন্য নাম। তাঁর বিচরন শুধু সাহিত্যেই সীমাবদ্ধ ছিলনা। তিনি ছিলেন একজন গায়ক, আধ্যাতিক সাধক, মানবতাবাদী, সমাজ সংস্কারক এবং দার্শনিক। ফকির লালান শাহর জন্ম আজও অজ্ঞাত। তিনাকে বাউল গানেরও অন্যতম অগ্রদূত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বাংলার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের আরেক নাম ফকির লালন শাহ।

 

 

“ হিতকরী” পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ নিবন্ধে বলা হয়েছে, লালন তরুন বয়সে একবার তীর্থ ভ্রমণে বের হয়ে পথিমধ্যে গুটি বসন্ত রোগে আক্রান্ত হন। তখন তার সাথীরা তাঁকে মৃত ভেবে পরিত্যাগ করে চলে যায়।কালিগঙ্গা নদীতে ভেসে আসা মুর্মূষু লালনকে উদ্ধার করে ছেউড়িঁয়া গ্রামের মলম ফকিরের স্ত্রী মতিজান বিবি। মলম শাহ ও তার স্ত্রী মতিজান তাদের বাড়িতে নিয়ে সেবা শুশ্রুসা দিয়ে লালনকে সুস্থ করে তোলেন। আজীবন লালন তাঁর দিক্ষাগুরু সিরাজ সাইঁকে শ্রদ্ধা করেছেন এবং তাঁর কাছ থেকে পথ-নির্দেশনা পেয়েছেন। মলম ফকির ছেউড়িঁয়া গ্রামে তার যে নিজস্ব সম্পত্তি ছিল তা লালন ফকিরের নামে দান করে দেন। যা এখনও লালন ফকিরের আখঁড়া বাড়ি ও সমাধিসৌধ এলাকা।

 

 

বাউল গানের অগ্রদূত লালন ধর্ম, বর্ণ,গোত্রসহ সকল প্রকার জাতিগত বিভেদ থেকে সরে এসে মানবতাকে সবোর্চ্চ স্থান দিয়েছিলেন। এই মনোভাব থেকেই তিনি তাঁর গানসমূহ রচনা করেন। তাঁর গান ও দর্শণ যুগে যুগে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর,কাজী নজরুলের মত বহু খ্যাতনাম কবি-সাহিত্যিক,দার্শণিক,বুদ্ধিজীবীসহ অসংখ্য মানুষকে প্রভাবিত করেছে। লালনের গানে মানুষ ও সমাজই ছিল মুখ্য। লালন বিশ্বাস করতেন সকল মানুষের মাঝে বাস করে এক মনের মানুষ।সবকিছুর উর্দ্ধে মানবতাবাদকেই তিনি সর্বোচ্চ স্থান দিয়েছিলেন। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন মনের মানুষের কোন ধর্ম, জাত, বর্ণ, লিঙ্গ,কুল নাই। মানুষের দৃশ্যমান শরীর এবং অদৃশ্য মনের মানুষ পরস্পর বিছিন্ন। সকল মানুষের মনে ঈশ্বর বাস করেন। লালনের এই দর্শণকে কোন ধর্মীয় আর্দশের অর্ন্তগত ধরা যায়না। লালন মানবাত্মাকে বিবেচনা করেছেন রহস্যময়,অজানা এবং অস্পৃশ্য এক সত্তারুপে।
খাঁচার ভিতর অচিন পাখি
কেমনে আসে যায়
তারে ধরতে পারলে মন বেড়ি
দিতাম পাখির পায়

 

 

লালনের স্মৃতিতে গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক ও মনোরম পরিবেশে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত লালন একাডেমি ও যাদুঘর। যার প্রবেশ মূল্য বিশ টাকা। একাডেমির সামনেই বসে গানের আসর। প্রতি বছর ১৭ অক্টোবর ঘটা করে পালন করা হয় লালন স্মরনোৎসব। জেলা প্রশাসনের ব্যাপক প্রস্তুতির মাধ্যমে পালিত হয় এই উৎসব। দেশী-বিদেশী অনেক লোকের সমাগম ঘটে এই উৎসবে। তিল ধারনের যেই ঠাইঁ নাই।

 

 

ঐতিহাসিক মূল্য এবং সতর্কতা:ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনা করে এর সংস্কার সাধন করা হয়েছে।গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর কর্তৃক সংরক্ষিত পুরাকির্তী হিসেবে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয় – “ কোন ব্যক্তি এই পুরাকির্তীর কোন রকম ধ্বংস বা অনিষ্ট সাধন করলে বা এর কোন বিকৃতি বা অঙ্গচ্ছেদ ঘটালে বা এরে কোন অংশের উপর লিখলে বা খোদাই করলে বা কোন চিহ্ন বা দাগ কাটলে,১৯৬৮ সালের ১৪ নং পুরাকির্তী আইনের ১৯ ধারার অধীনে তিনি সবার্ধিক ০১ বৎসর পযর্ন্ত জেল বা জরিমানা বা উভয় প্রকার দন্ডে দন্ডনীয় হবেন।

 

যাতায়াত ব্যবস্থা:কুষ্টিয়া মজমপুর বাস স্ট্যান্ড হতে এর দূরত্ব ৬ কি.মি.।অটো রিকশা, সিএনজি, ইজিবাইক, বা অন্যান্য যেকোন বাহন যোগে ৩০/৪০ টাকা ভাড়ায় সহজেই চলে যেতে পারেন আপনার গন্তব্যে।

 

 

 

কুষ্টিয়ায় আরো যা দেখতে পারেন:১।টেগর লজ (কুষ্টিয়া সদর),রবীন্দ্র কুঠিবাড়ী(শিলাইদহ,কুমারখালী) ৩। কাঙাল হরিনাথ মজুমদার যাদুঘর ( কুমারখালী), ৪।মীর মশাররফ হোসেনের বাস্তুভিটা ( লাহিনীপাড়া, কুমারখালী ), ৫। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের টেগর লজ (কুষ্টিয়া সদর), ৬। খোকসা কালী পুজা মন্দির,৭। লালন শাহ সেতু ও হার্ডিং ব্রিজ, ৮। রেইন উইক বাঁধ,(কুষ্টিয়া সদর), ৯। ডিসি কোর্ট, ১০। ঐতিহ্যবাহী কুষ্টিয়া পৌরসভা, ১১। গোপিনাথ মন্দির (শিলাইদহ, কুমারখালী), ১২। হযরত সোলায়মান শাহ মাজার(ভেড়ামারা), ১৩। ঝাউদিয়া শাহী মসজিদ (তেবাড়িয়া,কুমারখালী), ১৪।ডাক হরকরা ভাস্কর্য, ১৫।চেতনা’৭১ ভাস্কর্য(কুষ্টিয়া পুলিশ লাইন্স), ১৬। জগতি রেল স্টেশন (প্রথম রেল স্টেশন), ১৭। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (শান্তি-ডাঙ্গা,দুলালপুর,ইবি), ১৮। গড়াই নদী, ১৯। পদ্মা নদী প্রভৃতি স্থান সমূহ সময় নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন। রাত্রিযাপনের জন্য কুষ্টিয়া সদরে রয়েছে বেশ কিছু আবাসিক হোটেল।

 

সরকারি আবাসিক ব্যবস্থাঃ :সার্কিট হাউজ(০৭১-৬১৪০০), জেলা পরিষদ রেস্ট হাউজ (০৭১-৬২৩৯০),সড়ক ও জনপদ রেস্ট হাউজ (০৭১-৬২৬৬০), এল. জি.ইডি রেস্ট হাউজ(০৭১-৬১১৭৭),পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি রেস্ট হাউজ (০৭১-২০৮৬),সুগার মিলস রেস্ট হাউজ (০৭১-৭৩০৪২), বিসিক রেস্ট হাউজ (০৭১-৬১৯৭৪),জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর রেস্ট হাউজ(০৭১-৬১৮৯৪),পিডিবি রেস্ট হাইজ (০৭১-৬২৩৮২),পানি উন্নয়ন বোর্ড রেস্ট হাউজ (০৭১-৫৩৪৬৯),বিএডিসি উদ্যান রেস্ট হাউজ(০৭১-৭৩৭৯১),শিলাইদহ ডাক বাংলো( ০৭১-৭৩৭৪৯),শিলাইদহ গীতাঞ্জলি ডাক বাংলো ০১৭৭৯-৬০৩২২৮),তারাগুনিয়া ডাক বাংলো,দৌলতপুর(০১৭-৭৩৭৪৯)/৬২৩৫৬,দৌলতপুর ডাক বাংলো (০১৭-৭৩৭৪৯/৬২৩৫৬),মিরপুর ডাক বাংলো (০৭১-৭৩৭৪৯/৬২৩৫৬),গঙ্গা-কপোতাক্ষ রেস্ট হাউজ, ভেড়ামারা(০৭১-৫৩৪৬৯),ভেড়ামারা ডাক বাংলো (০৭১-৭০৭৪৯/৬২৩৫৬), খোকসা ডাক বাংলো,কুমারখালী ডাক বাংলো সহ আরো অনেক আবাসিক ব্যবস্থা রয়েছে আপনার সুন্দর রাত্রিযাপনের জন্য।

 

বেসরকারি আবাসিক ব্যবস্থা:দিশা রেস্ট হাউজ (০৭১-৭৩৪০২, ফেয়ার রেস্ট হাউজ (০৭১-৬১৪৭০), হোটেল গোল্ডস্টার আবাসিক(০৭১-৬১৬৭৫),হোটেল আজমিরী আবসিক(০৭১-৬১১৯৩),হোটেল পদ্মা আবাসিক (০৭১-৭৩৬৭৮),হোটেল রিভারভিউ আবাসিক(০৭১-৭১৬৬০),হোটেল ডায়মন্ড আবাসিক(০৭১-৬২২১৮),হোটেল প্রিতম আবাসিক (০৭১-৭৩৭৯৮),হোটেল নূর ইন্টারন্যাশনাল(০১৭৭৮-৮৯৭৭৯২)সহ আরো ব্যক্তি মালিকানাধীন অনেক হোটেলের ব্যবস্থা রয়েছে।