রবীন্দ্র কুঠিবাড়ী, শিলাইদহ,কুমারখালী, কুষ্টিয়া


বাংলা সাহিত্যকে যে কজন কবি বা লেখক বিশ্ব সাহিত্যের আসরে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছেন নোবেল বিজয়ী বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাদের মধ্যে অন্যতম।তিনি আজ্ও বাংলা সাহিত্যাকাশের এক উজ্জল নক্ষত্র।
শিলাইদহ কুঠিবাড়ীটি পদ্মার তীরবর্তী।রবীন্দ্রনাথের শিলাইদহের যুগে বহু বিখ্যাত ব্যক্তি তাঁর সংগে দেখা করতে আসতেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিবর্গ হলেন: স্যার জগদীশচন্দ্র,ডি.এল রায়, জগদীশচন্দ্রনাথ রায়,দীনবন্ধু,অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়,শিল্পী নন্দলাল বসু,মুকুল দে, সুরেন্দ্রনাথ কর প্রমুখ সাহিত্যিক শিল্পীগন। বলা যায়, সাহিত্যিকবৃন্দের এক মিলনস্থল ছিল নোবেল বিজয়ী রবীন্দ্রনাথের এই শিলাইদহ কুঠিবাড়ীটি। এটি বাংলাদেশের একটি অন্যতম দর্শনীয় এবং সুন্দর জায়গা।

 

 

ড. মুহাম্মদ এমদাদ হাসনায়েন এবং সারিয়া সুলতানা তাদের ”কুষ্টিয়ার ইতিহাস” গ্রন্থে লেখেন রবীন্দ্রনাথের নোবেল প্রাপ্তি সংবাদ ঘোষণার কিছুদিন পর শিলাইদহ জমিদারী দায়িত্ব তিনি অর্পন করেন ”সবুজপত্র“ পত্রিকার সম্পাদক প্রমথ চৌধুরী বিরবলকে। ১৯২২ সালে শিলাইদহের জমিদারী সুরেন্দ্রনাথ ঠাকুরের অংশে পড়ে। এই বছরই কবি শিলাইদহ ত্যাগ করেন। কিন্তু আবার অল্প কয়েকদিন পরে তিনি শিলাইদহ ফিরে আসেন। শেষবারের একখানা চিঠিতে তিনি লিখেছিলেন, “শিলাইদহে ঘুরে এলুম।পদ্মা তাকে পরিত্যাগ করেছে,তাই মনে হল বীণা আছে তার নেই, তার না থাকুক অনেক কালের অনেক গানের স্মৃতি আছে।ভাল লাগলো, সেই সঙ্গে মন উদাস হলো”। কবি পদ্মা নদীকে অত্যন্ত গভীরভাবে ভালবেসেছিলেন,তাঁর অসংখ্য রচনায় সে চিহ্ন সুপরিস্ফুট।তেমনি পদ্মাচুম্বিত শিলাহদহের প্রতিও নিবিড় টান।

 

 

চাকুরির সুবাদে কুষ্টিয়া পোস্টিং। ঘুরাঘুরি আমার একটি শখ। সময় পেলেই বের হয়ে যাই প্রকৃতিকে জানতে, ইতিহাসকে জানতে,বাংলার রুপ-বৈচিত্রকে উপভোগ করতে।পোস্টিং এর আগে অবশ্য একবার এসে ঘুরে গেছিলাম। পোস্টিংয়ের পর তিনবার গিয়েছি। যাতবার গেছি তত বারই এই শিলাইদহ রবীন্দ্র কুঠিবাড়ীর সৌন্দর্য ও পরিবেশ আমাকে বেশ মুগ্ধ করেছে। আপনারাও সপরিবারে এবং সবান্ধবে ঘুরে আসতে পারেন।

 

 

ঐতিহাসিক মূল্য এবং সতর্কতা:ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনা করে এর সংস্কার সাধন করা হয়েছে।গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর কর্তৃক সংরক্ষিত পুরাকির্তী হিসেবে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয় – “ কোন ব্যক্তি এই পুরাকির্তীর কোন রকম ধ্বংস বা অনিষ্ট সাধন করলে বা এর কোন বিকৃতি বা অঙ্গচ্ছেদ ঘটালে বা এরে কোন অংশের উপর লিখলে বা খোদাই করলে বা কোন চিহ্ন বা দাগ কাটলে,১৯৬৮ সালের ১৪ নং পুরাকির্তী আইনের ১৯ ধারার অধীনে তিনি সবার্ধিক ০১ বৎসর পযর্ন্ত জেল বা জরিমানা বা উভয় প্রকার দন্ডে দন্ডনীয় হবেন।
 
ভ্রমনের ক্ষেত্রে একটি বিষয় লক্ষ রাখতে হবে যে, সাপ্তাহিক বন্ধ রবিবার এবং সোমবার অর্ধদিবস(১৪.৩০-১৮.০০) খোলা। সরকার ঘোষিত অন্যান্য ছুটির দিনসহ বন্ধ থাকবে। টিকিট মূল্য দেশী পর্যটকদের জন্য ২০(বিশ) টাকা এবং বিদেশী পর্যটকদের জন্য ২০০(দুইশত) টাকা।

 

 

যাতায়াত ব্যবস্থা:কুষ্টিয়া মজমপুর বাস স্ট্যান্ড হতে এর দূরত্ব ১৮ কি.মি.।অটো রিকশা, সিএনজি, ইজিবাইক, বা অন্যান্য যেকোন বাহন যোগে সহজেই চলে যেতে পারেন আপনার গন্তব্যে।
 

 

কুষ্টিয়ায় আরো যা দেখতে পারেন:১।টেগর লজ (কুষ্টিয়া সদর), ২।বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহ মাজার(ছেউড়িয়া,কুমারখালী) ৩। কাঙাল হরিনাথ মজুমদার যাদুঘর ( কুমারখালী), ৪।মীর মশাররফ হোসেনের বাস্তুভিটা ( লাহিনীপাড়া, কুমারখালী ), ৫। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের টেগর লজ (কুষ্টিয়া সদর),৬। খোকসা কালী পুজা মন্দির,৭।লালন শাহ সেতু ও হার্ডিং ব্রিজ, ৮। রেইন উইক বাঁধ,(কুষ্টিয়া সদর), ৯। ডিসি কোর্ট,১০। ঐতিহ্যবাহী কুষ্টিয়া পৌরসভা,১১। গোপিনাথ মন্দির(শিলাইদহ, কুমারখালী), ১২। হযরত সোলায়মান শাহ মাজার(ভেড়ামারা)১৩। ঝাউদিয়া শাহী মসজিদ(তেবাড়িয়া,কুমারখালী)১৪।ডাক হরকরা ভাস্কর্য, ১৫।চেতনা’৭১ ভাস্কর্য(কুষ্টিয়া পুলিশ লাইন্স),১৬। জগতি রেল স্টেশন(প্রথম রেল স্টেশন)১৭। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (শান্তি-ডাঙ্গা,দুলালপুর,ইবি)১৮। গড়াই নদী ১৯। পদ্মা নদী প্রভৃতি স্থান সমূহ সময় নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন। রাত্রিযাপনের জন্য কুষ্টিয়া সদরে রয়েছে বেশ কিছু আবাসিক হোটেল।

 

 

সরকারি আবাসিক ব্যবস্থাঃ :সার্কিট হাউজ(০৭১-৬১৪০০), জেলা পরিষদ রেস্ট হাউজ (০৭১-৬২৩৯০),সড়ক ও জনপদ রেস্ট হাউজ (০৭১-৬২৬৬০), এল. জি.ইডি রেস্ট হাউজ(০৭১-৬১১৭৭),পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি রেস্ট হাউজ (০৭১-২০৮৬),সুগার মিলস রেস্ট হাউজ (০৭১-৭৩০৪২), বিসিক রেস্ট হাউজ (০৭১-৬১৯৭৪),জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর রেস্ট হাউজ(০৭১-৬১৮৯৪),পিডিবি রেস্ট হাইজ (০৭১-৬২৩৮২),পানি উন্নয়ন বোর্ড রেস্ট হাউজ (০৭১-৫৩৪৬৯),বিএডিসি উদ্যান রেস্ট হাউজ(০৭১-৭৩৭৯১),শিলাইদহ ডাক বাংলো( ০৭১-৭৩৭৪৯),শিলাইদহ গীতাঞ্জলি ডাক বাংলো ০১৭৭৯-৬০৩২২৮),তারাগুনিয়া ডাক বাংলো,দৌলতপুর(০১৭-৭৩৭৪৯)/৬২৩৫৬,দৌলতপুর ডাক বাংলো (০১৭-৭৩৭৪৯/৬২৩৫৬),মিরপুর ডাক বাংলো (০৭১-৭৩৭৪৯/৬২৩৫৬),গঙ্গা-কপোতাক্ষ রেস্ট হাউজ, ভেড়ামারা(০৭১-৫৩৪৬৯),ভেড়ামারা ডাক বাংলো (০৭১-৭০৭৪৯/৬২৩৫৬), খোকসা ডাক বাংলো,কুমারখালী ডাক বাংলো সহ আরো অনেক আবাসিক ব্যবস্থা রয়েছে আপনার সুন্দর রাত্রিযাপনের জন্য।

 

বেসরকারি আবাসিক ব্যবস্থা:দিশা রেস্ট হাউজ (০৭১-৭৩৪০২, ফেয়ার রেস্ট হাউজ (০৭১-৬১৪৭০), হোটেল গোল্ডস্টার আবাসিক(০৭১-৬১৬৭৫),হোটেল আজমিরী আবসিক(০৭১-৬১১৯৩),হোটেল পদ্মা আবাসিক (০৭১-৭৩৬৭৮),হোটেল রিভারভিউ আবাসিক(০৭১-৭১৬৬০),হোটেল ডায়মন্ড আবাসিক(০৭১-৬২২১৮),হোটেল প্রিতম আবাসিক (০৭১-৭৩৭৯৮),হোটেল নূর ইন্টারন্যাশনাল(০১৭৭৮-৮৯৭৭৯২)সহ আরো ব্যক্তি মালিকানাধীন অনেক হোটেলের ব্যবস্থা রয়েছে।